সকালবেলার রোদটা এসে পড়ত ঠিক জানালার কোণে। মা বলতেন, ওই কোণটায় নাকি রোদ জমে থাকে।

সেই জানালার ধারে বসেই দেখতাম, এক চিলতে আলোর মধ্যে অজস্র ধুলোর কণা ভেসে বেড়াচ্ছে। মনে হতো ওরা প্রত্যেকে একেকটা ছোট্ট গল্প। ভেসে বেড়াচ্ছে কারো বলার অপেক্ষায়।

“যা কিছু ফেলে আসি, ধুলো হয়ে তা-ই জমে থাকে আমাদের পিছনে।”

দিদা চলে যাওয়ার পর সেই ঘরটা বন্ধই থাকত। একদিন চাবি খুঁজে পেয়ে দরজা খুলতেই দেখি—সবকিছুর ওপর পুরু ধুলোর আস্তরণ। টেবিলের ওপর খোলা একটা ডায়েরি, পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে।

একটি না-বলা চিঠি

ডায়েরির ভাঁজে একটা চিঠি। কোনোদিন পাঠানো হয়নি। দিদার গোটা গোটা হাতের লেখা, যেন এইমাত্র লেখা শেষ হলো। প্রতিটি অক্ষরের ওপর ধুলো জমেছে, তবু পড়া যায় স্পষ্ট।

সেদিন বুঝেছিলাম—কিছু কথা বলা হয় না বলেই বেঁচে থাকে। ধুলো জমে, কিন্তু মুছে যায় না। আর আমরা, যারা পরে আসি, তারা সেই ধুলো সরিয়ে আবার পড়ি পুরোনো ভালোবাসা।

জানালার ওই কোণে আজও রোদ এসে পড়ে। আর তার ভেতর ভেসে বেড়ায় অজস্র ধুলোর কণা—একেকটা একেকটা গল্প, কারও কুড়িয়ে নেওয়ার অপেক্ষায়।